টাইমস নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ : Jun 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সাধারণ জনগণের আস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে জন-প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে: ডিসি জাহিদুল ইসলাম

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেই সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং জন-প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। জনগণ যাতে সহজে, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পায়, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যতম দায়িত্ব। গ্রাম আদালত হতে পারে সেই আস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নগরীর পিটিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক জেলা পর্যায়ের অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প’-এর আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন। এতে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), ১৯১টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসা’র পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানু শ্যামলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম আনোয়ার ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা বছরের পর বছর সভা-সেমিনারে অংশ নিই, নানা পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করি। কিন্তু আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে—বাস্তবে আমরা কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছি? জনগণ কি আমাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে?”
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কাছ থেকে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধও থাকতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে প্রত্যেকের উচিত নিজের কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা প্রায়ই অন্যের ভুল খুঁজি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি কি না, সেই আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে কমে গেছে। অথচ দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব আমাদেরই ওপর ন্যস্ত। অন্য কেউ এসে এই দায়িত্ব পালন করবে না।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতি বুধবার গণশুনানিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা নিয়ে আসেন। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, অনেক সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান করা সম্ভব ছিল। যদি আমরা নিজ নিজ দায়িত্ব আরও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতাম, তাহলে মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যেত।”
গ্রাম আদালতের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অনেক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি বলেন, “গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত একটি সফল উদ্যোগ। এই কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক অংশগ্রহণ।”
জেলা প্রশাসক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনার কাছে যে নাগরিকটি সেবা নিতে আসে, সে যেন কাঙ্ক্ষিত সেবা নিয়ে ফিরে যেতে পারে। আপনার কর্মস্থলকে সেবার সুবাসে ও মানবিকতার সৌরভে ভরিয়ে তুলুন। মানুষ যেন আপনাকে আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখতে পারে।”
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সবাই নিরাপদ থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুন্দর সমাজ পাবে। সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু কোনো নাগরিক যেন সেবাবঞ্চিত না হয়—সেটি নিশ্চিত করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন গ্রাম আদালত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক ও সেবামুখী মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম আদালত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। যেসব ইউনিয়নে মামলার সংখ্যা শূন্য বা অত্যন্ত কম, বিশেষ করে মিরসরাইয়ের কয়েকটি ইউনিয়নের উদাহরণ তুলে ধরে সেখানে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আস্থা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মামলার নথি, রেজিস্টার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিজ দায়িত্বে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আবৃত্তিশিল্পের বিকাশে সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে: ডিসি

1

জিয়া হলের নকশা উপস্থাপন ও আলোচনা সভা

2

মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়

3

খালেদা জিয়াকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিচ্ছে লন্ডন ক্লিনিকের মেড

4

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মে দিবসের সমাবেশ ও র‍্যালি

5

চট্টগ্রামে একযোগে ৩৩শ'র বেশি সরকারি ভবন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্র

6

আন্তোনিও রাতিনকে সম্মান জানাতে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নাম

7

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

8

সনদ অর্জনের পাশাপাশি মানবিক গুণ চারিত্রিকভাবে উন্নত করে গড়ে

9

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ বাপ্পির নেতৃত্বে ট্রাক ট্যাংলরি শ্র

10

‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু

11

লিংক রোড আবর্জনা ও ময়লার ভাগাড় ডিসি'র উদ্যোগে অপসারণ

12

ইসলামী আন্দোলন নেতা বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে

13

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতিমুলক সভা

14

ফোনে হুমকির পর ব্যবসায়ীর গাড়িতে হামলা, দুই থানায় অভিযোগ

15

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

16

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জো

17

মানুষ যখন খেলাধুলার মধ্যে থাকে তখন বিপথে যাওয়ার সুযোগ থাকেনা

18

মাদক সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গঠনে উত্তর চ

19

নানা আয়োজনে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত

20